ধনে পাতা বিক্রি করে দৈনিক আয় ৩ হাজার টাকা




ভয়েস অফ কুষ্টিয়া।। করোনার কারণে আর মালয়েশিয়ায় যাওয়া হয়নি। ফলে বন্ধ হয়ে যায় রোজগারের পথ। সংসার চালাতে চাষ করেছেন বিলাতি ধনে পাতা। মাত্র এক বিঘা জমির ধনে পাতা বিক্রি করে চলছে জিন্নাত আলীর সংসার। জিন্নাত আলী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুরের কাজিরটেক গ্রামের বাসিন্দা।








জানা গেছে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অধিগ্রহণ শুরু করে আলমপুর গ্রামের জিন্নাত আলী ও তার ভাই শামীম মিয়া রোজগারের জন্য মালয়েশিয়া চলে যান। করোনা মহামারি শুরু হলে তারা দেশে চলে আসেন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ভিসা জটিলতায় তারা দুই ভাই থেকে যান গ্রামে। তবে সময় শেষ হওয়ায় তাদের ভিটেবাড়ি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) অধিগ্রহণ করে নেয়। পরবর্তীতে তারা উপজেলার দাউদপুরের কাজিরটেক এলাকায় মাত্র ১৮ শতক জমিতে বসতঘর গড়ে তোলেন। সেখানেই পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন।

কিন্তু চাষাবাদের জমি না থাকায় পাশের জমি মালিকের কাছ থেকে ১ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে সেখানে বিলাতি ধনে পাতার চাষ শুরু করেন। গত এক বছরে সেখানে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বিলাতি ধনে পাতা। এ ধনে পাতা ৬০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন স্থানীয় বাজারে ৫ থেকে ৬ কেজি ধনে পাতা বিক্রি করে দুই-তিন হাজার টাকা আয় হচ্ছে তাদের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসী জিন্নাত আলী বলেন, বিলাতি ধনে পাতার গোড়া থেকে আবার চারা গজায়। এটা চাষাবাদে জৈবিক সার ছাড়া তেমন কিছু প্রয়োজন হয় না। বেলে ও দোআঁশ মাটিসহ সব রকম পরিবেশে অনেকটা অযত্নে বেড়ে উঠে এ ধনে পাতা।




তিনি আরও বলেন, বাজারে ব্যাপকভাবে মসলাজাতীয় কৃষি পণ্যের চাহিদা থাকায় স্থানীয়ভাবে বাড়ছে এসবের চাষাবাদ। তবে কৃষকদের জমি সংকট থাকায় অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন না। যত্রতত্র আবাসন কোম্পানির দৌরাত্ম্যে বহু কৃষক তার নিজ পেশা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

ভুক্তভোগী উপজেলার শিমুলিয়া এলাকার কৃষক রোমান মিয়া বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে অন্যের বর্গা জমিতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। এখন সেখানে বালু ভরাট করায় ওই নদীপাড়ে আর কৃষিজমি নেই। ফলে বেকার হয়ে অন্য কাজ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছি। নদীপাড়ের উর্বর জমিতে কৃষি কাজ করতেন এমন সহস্রাধিক কৃষক বর্তমানে বেকার হয়ে ভিন্ন পেশায় ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেহা নুর বলেন, ধনে পাতাসহ মসলাজাতীয় কৃষি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষকদের উচিত বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চাষাবাদে যুক্ত হওয়া। এ ধরনের চাষাবাজে যে কোনো কৃষক সহায়তা চাইলে সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে। এ ছাড়াও আদা, হলুদ, কচু চাষাবাদেও কৃষকরা লাভবান হতে পারেন। তাছাড়া আবাসনের বালুতেও বহু কৃষক চাষাবাদ করছেন। বালুতে চাষাবাদ উপযোগী ফসল নিয়ে কৃষকদের মাঝে কর্মসূচির চিন্তাভাবনা রয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা লকডাউন

এম.এ.আর.নয়ন ।। চুয়াডাঙ্গা জেলায় বেড়েই চলেছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রবিবার (১৩ই জুন) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে পাঠানো ১৩২জনের নমুনা...

ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন : আইজিপি

ভয়েস অফ কুষ্টিয়া ।। বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ব্যক্তিস্বার্থ ও মোহের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনমানুষের কল্যাণ...

গুলি করে হত্যার ঘটনায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর : দুপুরে দাফন

ভয়েস অফ কুষ্টিয়া ।। পরকীয়ার জেরে কুষ্টিয়া শহরে স্ত্রী, সৎ সন্তান ও এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা...

চট্টগ্রামে বাড়তি ভাড়া না দেওয়ায় যাত্রীর মাথা ফাটালেন হেলপার

ভয়েস অফ কুষ্টিয়া ।। যাত্রীর গন্তব্য নগরের বাদুরতলা বড় গ্যারেজ এলাকা থেকে বহদ্দারহাট পুলিশ বক্স পর্যন্ত। দূরত্ব আনুমানিক ১ কিলোমিটার। সাধারণ সময়ে ভাড়া ৫ টাকা।...
error: কপি করা যাবে না -ধন্যবাদ