বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো জীবনটা আরো অন্যরকম হতো

বাবার স্মৃতিচারণে
মোস্তাফিজুর রহমান সুমন এর লেখা
উপদেষ্টা, ভয়েস অফ কুষ্টিয়া ।









বাবা যেদিন মারা যান সেদিন তার শেষ কথাটি হয়েছিলো আমার সাথে। বাবা’র শেষ কথাটি আজো আমার কানে বাজে অবিরত “বাবা, ভালো করে পরীক্ষা দিস, ভালো করে পড়াশোনা করিস” ।

এর পর থেকে যতগুলি পরীক্ষা দিতে গিয়েছি ওই কথাটা অন্তরের গভীরে ধারণ করেছি, সাধ্য মত চেষ্টা করেছি সব পরীক্ষা ভালো করে সম্পন্ন করতে।

যার জীবনে বাবা নামক বটগাছটি থাকেনা, তার জীবনটা যে কতটা কঠিন.. কতটা কষ্টের !! যিনি বাবা হারিয়েছেন, তিনিই বোঝেন।আমার বাবা যখন মারা যান তখন আমি এইচ এস সি পরিক্ষার্থী। বাবা মারা যাবার ঠিক ৬ দিন পর আমার এইচ এস সি পরীক্ষা।

বাবার কথা রাখতেই গুটিবসন্ত জ্বর এবং টিটিনাসের চরম যন্ত্রণা নিয়েও এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ করি এবং পাসও করি।

স্কুল জীবনে সোনামণি প্রিপারেটরি এবং কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রথম সারির ছাত্র ছিলাম, এস এস সি পরিক্ষায় স্টার মার্ক এবং পাঁচ বিষয়ে লেটার নিয়ে পাস করা আমি এইচ এস সি পরীক্ষা পাস করলেও আশা অনুরুপ ফল পাইনি শুধুমাত্র পরিবেশের প্রতিবন্ধকতার কারনে।

বাবা বেচে থাকলে হয়তো আমার জীবন টা আরো অন্যরকম হতো আরো অন্য রকম!  আমিও হয়তো পারতাম পরিবার কে কুষ্টিয়াতে রেখে, ভালো কোথাও পড়াশোনা করতে।পরিবারে একমাত্র ছেলে হিসেবে নিজ জেলার বাইরে পড়তে যাওয়াটা যে দুঃসাধ্যের ব্যাপার এটা তখন কেউ না বল্লেও আমি নিজে থেকেই বুঝেছিলাম,তাই কুষ্টিয়ার বাইরে পড়তে যাবার চিন্তাটা বাদ দিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম বাড়ির পাশের কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে।




“বাবা বেচে থাকলে হয়তো জীবন টা আরো অন্যরকম হতো” এইচ এস সি পাসের পর সব বন্ধুরা যখন বুয়েট, বি আই টি কিংবা ম্যাডিক্যেলে ভর্তি হলো। যারা বুয়েট, বি আই টি কিংবা ম্যডিক্যেলে চান্স পেলো না, তারাও প্রাইভেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো ভালো বিষয়ে ভর্তি হলো, তাদের বেশির ভাগ বন্ধুই এখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা অনেক বড় অফিসার।

কিন্তু আমি…….! জীবনের সাথে সংগ্রম করতে করতে জীবনের শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। “বাবা বেচে থাকলে হয়তো জীবনটা আরো অন্য রকম হতো”। এই পৃথিবীতে মা, বাবার মত আর কেউ এমন আপন হয়না। মায়ের তো অনেক বাধ্যবাধকতা থাকে ।

কিন্তু বাবা হলেন এক সীমাহীন মিঠা পানির সাগর, যার ক্ষরস্রোতা জ্বলোধারা শীতল করে আগ্নেয়গিরির জলন্ত অগ্নিউৎপাত। বাবার কথা রাখতেই আমি আমার পড়াশোনা টা শেষ করেছি মাস্টার্স কম্পিলিট করেছি।কিন্তু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কিংবা বড় অফিসার হতে পারিনি।কিন্তু চেষ্টা করেছি একজন সত্যিকারের মানুষ হিসাবে নিজেকে তৈরী করতে। “বাবা বেচে থাকলে হয়তো জীবন টা আরো অন্যরকম হতো।

আমি বুঝি যারা অল্প বয়সে বাবা হারায় তাদের বুকে কষ্ট, আমি দেখতে পাই তাদের হৃদয়ের হাহাকার, না বলা হাজারও কথা! যা অন্তরে জন্মে অন্তরের বিলিন হয়ে যাই, কখনোয় প্রকাশ পাই না। ঠিক আমারই মতো। বাবা, ও বাবা, বাবা, তোমাকে কেনো জানি আজও খুব মিস করছি।

মিস করছি তোমার গায়ের গন্ধ, হাতের স্পর্শ আর প্রতিটা আবদার পুরনের প্রত্যয়। আই লাভ ইউ বাবা।

ছবিটি আমার বাবার যিনি ২০০১ সালে আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরা দেশে।সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন মহান আল্লাহ তায়ালা যেনো জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন-আমিন।




সর্বশেষ সংবাদ

লকডাউনে শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দুর্দশা চরমে

মোশারফ হোসেন ।। লকডাউনের কারণে কুমারখালী শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অর্থ সংকটে এখন চরমে। বিশেষ করে রিক্সাওয়ালা, হকার, হাজারো শ্রমজীবী এখন ভবিষ্যত নিয়ে চরম...

কুমারখালীতে কৃষকের রহস্য জনক মৃত্যু

মোশারফ হোসেন ।। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নিজ বাড়ি থেকে সাড়ে তিনশ গজ দুরের ফাঁকা আবাদি জমি থেকে নজির উদ্দিন ওরফে নাসিম উদ্দিন (৫৯) নামের এক...

কুষ্টিয়ায় আটক ২শতাধিক রিক্সা ফিরিয়ে দিলো পুলিশ

ভয়েস অফ কুষ্টিয়া ।। কুষ্টিয়া মডেল থানা ও পুলিশ লাইনে জব্দ করে রাখা ২শতাধিক রিক্সা ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। আনন্দে আত্বহারা চালকেরা। কঠোর লক্ডাউন অমান্য...

মিরপুরে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হামলা ও মামলার শিকার যুবক

ভয়েস অফ কুষ্টিয়া ।। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে মারধর, মামলা এবং হুমকির শিকার হয়েছে বিল্লাল হোসেন নামের এক যুবক । ঘটনা...
error: কপি করা যাবে না -ধন্যবাদ