মাস অতিবাহিত হলেও চুয়াডাঙ্গা-যশোর রুটে চালু হয়নি সরাসরি বাস চলাচল

এম.এ.আর.নয়ন-চুয়াডাঙ্গা ।। চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও যশোর বাস মালিক সমিতির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে চুয়াডাঙ্গা টু যশোর ভায়া দর্শনা-জীবননগর আন্তঃজেলা রুটে সরাসরি বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে৷ যার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এই রুটে চলাচলকারী সাধারণ বাস যাত্রীদের। কিন্তু এর কোন সুষ্ঠু সমাধান এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এর আগেও কয়েকবার একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে যাত্রী সাধারণের। সরাসরি বাস চলাচল না করায় উভয়ই জেলার বাসই চুয়াডাঙ্গা জেলার শেষ প্রান্ত জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ পর্যন্ত চলাচল করছে। সেখান থেকে বাস পরিবর্তন করে আবার অন্য বাসে উঠে পৌঁছাতে হচ্ছে গন্তব্যে। সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে গত ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখ থেকে। এর আগের বার প্রায় দু’বছর বন্ধ থাকার পর উভয় জেলার বাস মালিক সমিতির মধ্যে সমঝোতার পর পুনরায় সরাসরি বাস চলাচল শুরু হলেও তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলো। কবে নাগাদ এই রুটে সরাসরি বাস চলাচল শুরু হবে তাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা।

জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে প্রতিদিন সকালে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও যশোর রুটে চুয়াডাঙ্গা জেলার বাস মালিক সমিতির বাসগুলো যাত্রা আরম্ভ করে। একইভাবে অন্যান্য জেলা থেকেও সংশ্লিষ্ট জেলার মালিক সমিতির বাসগুলো চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে যাত্রা আরম্ভ করে। যশোরগামী বাসগুলো শাপলা স্টিকারের ব্যানারে চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে দর্শনা-জীবননগর-কোটচাঁদপুর-কালীগঞ্জ হয়ে যশোরে প্রবেশ করে। ঠিক একইভাবে যশোর ও কালীগঞ্জ মালিক সমিতির বাসগুলোও শাপলা স্টিকারের ব্যানারে যশোর ও কালীগঞ্জ থেকে ছেড়ে চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রবেশ করে। পরবর্তীতে ডাউনে উভয় জেলার বাসগুলো নিজ নিজ জেলায় ফিরে যায়। তবে যশোর থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলোর অধিকাংশই কালীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির। সকালে চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসের প্রথম ট্রিপের আগে ও পরে কালীগঞ্জ মালিক সমিতির অনেক বাস কালীগঞ্জ থেকে ছেড়ে যশোরে পৌঁছায়। তারপর তারা যশোর থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্য যাত্রা আরম্ভ করে, যাতে করে চুয়াডাঙ্গা জেলার বাস চালকদের কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এছাড়া ঝিনাইদহের মহেশপুর ও ন্যাপা থেকে ছেড়ে আসা কালীগঞ্জ মালিক সমিতির অনেক বাসই খালিশপুুর ও জীবননগর দিয়ে প্রবেশ করে চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসের সাথে একই সময় রাস্তায় প্রতিযোগিতা করে কালীগঞ্জ হয়ে যশোরে প্রবেশ করে।

কিন্তু চুয়াডাঙ্গা জেলার ক্ষেত্রে অন্যান্য রুট দিয়ে তেমন কোন বাস প্রবেশ করেনা, অর্থাৎ যশোর থেকে ছেড়ে আসা চুয়াডাঙ্গাগামী কোন বাসকেই তেমন প্রতিযোগিতায় নামতে হয়না। তবে চুয়াডাঙ্গা জেলার কয়েকটা বাস আলমডাঙ্গা ও কার্পাসডাঙ্গা থেকে ছেড়ে যশোরে প্রবেশ করলেও ওসব রুটে কালীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির কোন বাস প্রবেশ করেনা। কালীগঞ্জ ও যশোর মালিক সমিতির বাসগুলো চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা বা পার্শ্ববর্তী জেলা মেহেরপুর পর্যন্ত সরাসরি যাতায়াত করতে করলে এই সমস্যার সৃষ্টি হতোনা। আর এই সমস্যাগুলোই মূল কারণ হিসেবে দেখা দেয় বার বার, যার কোন স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হয়নি আজ পর্যন্ত। ফলশ্রুতিতে একই সমস্যা খুব ঘন ঘন সৃষ্টি হয় যা অন্য রুটে চলাচলকারী বসের ক্ষেত্রে খুব একটা দেখা যায়না। এতে করে সাধারণ যাত্রীরা বাস মালিক সমিতির কাছে একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে। কোনপ্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই চুয়াডাঙ্গা ও কালীগঞ্জ বাস মালিক সমিতি আন্তঃজেলা রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ রেখে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে ফেলে থাকে। তবে চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃজেলার অন্যান্য রুট এবং ঢাকাগামী পরিবহন বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রী সাধারণের সুবিধার কথা চিন্তা করে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে এই সমস্যা নিরসনে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভোগান্তির শিকার হওয়া সাধারণ যাত্রীরা। তবে দীর্ঘ এক মাসের ও বেশী সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরেও এ সমস্যার কোন স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই রুটে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ।

আলোচিত খবর

error: কপি করা যাবে না -ধন্যবাদ