ঝিনাইদহ পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

ভয়েস অফ কুষ্টিয়া ।। ঝিনাইদহ পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এস এম সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে রকম আর্থিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। তিনি দায়িত্ব নেবার পর থেকেই নানা অনিয়ম করে আসছে।

ভুক্তভোগীরা বলেন, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এস এম সালাউদ্দিন সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের হুমকি ধামকি ও জিম্মি করে রাখেন। কেহ তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পান না। তিনি ঝিনাইদহ পিটিআইতে অনুষ্ঠিত গণিত অলিম্পিয়াড প্রশিক্ষণ থেকে নানা অনিয়ম ও দূনীতি করেছেন। প্রশিক্ষণে আসা অংশগ্রহনকারীদের নিকট থেকে আবাসন বাবদ ২৮০০০আদায় করেছেন এবং পকেটস্থ করেছেন। এছাড়া অডিটরিয়াম ভাড়া বাবদ ১০০০০, অডিটরিয়াম ক্লিনিং চার্জ বাবদ ৩০০০, প্রশিক্ষণ কক্ষ ভাড়া বাবদ ১৬০০০, সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া বাবদ ৬০০০, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ভাড়া বাবদ ১৬০০০, সর্বমোট ৫১০০০ তিনি অবৈধ ভাবে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। তিনি কোন অডিট রিয়াম, প্রশিক্ষণ কক্ষ, সাউন্ড সিস্টেম, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ভাড়া করেননি বরং পিটিআই ভেন্যুতে পিটিআই এর জিনিস দিয়ে এ সকল কাজ সম্পাদন করেছেন অথচ এ বাবদ বিল দাখিল করে বরাদ্দকৃত সব অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষনার্থীদের জন প্রতি প্রতিদিনের রিফ্রেশমেন্ট বরাদ্দ ছিল ১৬০। তিনি অংশগ্রহণকারিদের অত্যন্ত নিম্নমানের নাস্তা খাইয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, রিফ্রেশমেন্ট বাবদ বরাদ্দ থেকে প্রতিদিন প্রতিজনের জন্য সবোর্চ্চ ৬০ টাকা খরচ করেছেন। বাকি জনপ্রতি ১০০ টাকা করে আত্মসাৎ করেছেন। এনিয়ে তিনি সর্বমোট আত্মসাৎ করেছেন সর্বমোট ২৮০০০ টাকা।

সূত্রে জানা যায়, তিনি সাপোর্ট স্টাফের বরাদ্দ থেকে ১ জনের প্রতিদিনের সম্মানী ও খাবার ভাতা কর্তন করে আত্মসাৎ করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রতিদিন খাবার বাবদ ৮২০ এবং সম্মানী বাবদ ৫০০ টাকা করে আত্মসাৎ করেছেন। ফলে ০৮ দিনে মোট আত্মসাতের পরিমাণ ১০৫৬০ টাকা। প্রশিক্ষনে আসা অংশগ্রহণকারীদের ব্যাগ বাবদ বরাদ্দ ছিল ৩৫ জনের। তিনি ৩০ জনের ব্যাগ বিতরণ করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি ০৫ টি ব্যাগের মূল্যে ৬০০০ আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া প্রশাসনিক ব্যবদ ৫০০০ বরাদ্দ ছিল, যা তিনি খরচ না করে আত্মসাৎ করেছেন। তিনি সরকারি বাসা ভাড়া কর্তণ করেন না। সুপারিনটেনডেন্ট (চলতি দায়িত্ব) হলে সুপার কোয়ার্টারে থাকতে হবে এবং সুপার কোয়ার্টারের ভাড়া কর্তণ করতে হবে। কিন্তু সুপার কোয়ার্টারের ভাড়া কর্তণ না করে প্রতি মাসে বেতনের সাথে বাসা ভাড়া উত্তোলন করেন, ফলে বছরে তিনি ১৮০০০০ টাকা সরকারের ক্ষতিসাধন করছেন। তিনি ২০২০—২১ অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে বকেয়া ৪৮০০০ টাকা শ্রান্তি বিনোদন ভাতা এবং ২৬০০০ টাকা ভ্রমণভাতা বিল বিধিবর্হিভুতভাবে গ্রহণ করেছেন।

বর্ণিত বরাদ্দপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে বকেয়া শ্রান্তি বিনোদনভাতা এবং ভ্রমণভাতা ২০২০—২১ অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে গ্রহণ করা যাবে না। এক্ষেত্রে তিনি আর্থিক অনিয়ম করেছেন। পিটিআই অভ্যন্তরীন ফান্ডসমূহ— যেমন : ম্যাগাজিন, সাহিত্য সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, কমনরুম, কৃষি, ইউটেনসিল, লাইব্রেরি ইত্যাদি । এ সকল ফান্ড থেকে তিনি স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম করে টাকা উত্তোলন করেছেন এবং পকেটস্থ করেছেন। এছাড়াও তিনি ২০২০—২১ অর্থবছরে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাত থেকে প্রাপ্ত সকল বরাদ্দ আর্থিক
বিধি বিধান ভঙ্গ করে খরচ করছেন কিম্বা খরচ করার চেষ্টা করছেন, যা অবিলম্বে খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি সুপার কোয়ার্টারের নিচতলা মোঃ শওকত আলী, সহকারী লাইব্রেরিয়ান কাম ক্যাটালগার এর নিকট ৫০০০ টাকা করে ভাড়া দিয়েছেন এবং আদায়কৃত ভাড়া আত্মসাৎ করেছেন। সুপার কোয়ার্টারে অবস্থানকারী মোঃ শওকত আলীর নিজ গ্রাম পাবনা জেলায়। তিনি মতিউর রহমান নিজামীর আত্মীয় এবং মতাদর্শের মানুষ। তিনি পিটিআই কোয়ার্টারে নির্জনে একাকি থাকেন, এবং সেখানে বসেই জঙ্গি তৎপরতা, নাশকতাসহ রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। এ সকল অপকর্মে সহযোগিতা করেন এস এস সালাহউদ্দিন, সুপারিনটেনডেন্ট, ঝিনাইদহ পিটিআই, ঝিনাইদহ। নবযোগদানকৃত ০২ জন সহকারী সুপারিনটেনডেন্টকে পিটিআই হোস্টেলের গেস্টরুমে থাকার ব্যবস্থা করেছেন এবং প্রতি মাসে তাদের নিকট থেকে ২০০০/— টাকা করে আত্মসাৎ করে আদায় করেছেন। তিনি ডিপিএড প্রশিক্ষণ নেয়া শিক্ষকদের নিকট প্রশংসাপত্র বিতরণ করে ১০০/— টাকা আদায় করে পকেটস্থ করেছেন। এছাড়াও তিনি ২০২০—২১ অর্থবছরে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাত থেকে প্রাপ্ত সকল বরাদ্দ আর্থিক বিধি—বিধান ভঙ্গ করে খরচ করেছেন। কিংবা খরচ করার চেস্টা করছেন, যেখানে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

ভুক্তভোগীরা বলেন, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী মোসাৎ সাহিদা খাতুন, (সুপারিনটেনডেন্ট, মাগুরা পিটিআই, মাগুরা) বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি করে অবৈধ সম্পদ ও অর্থের পাহাড় গড়েছেন। জনো গেছে তিনি মাগুরা শহরে নিজস্ব জমিতে দু’তল াবিশিস্ট ভবন নির্মাণ করেছেন এবং ঢাকা শহরে বিলাসবহুল ফ্লাট ক্রয় করেছেন। তিনি নামে বেনামে স্থাবর—অস্থাবর অনেক সম্পদ তৈরি করেছেন।

এবিষয়ে ঝিনাইদহ পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এস এম সালাউদ্দিন বলেন, আমি এধরনের অনিয়মের সাথে জড়িত না।

আলোচিত খবর

error: কপি করা যাবে না -ধন্যবাদ