কুষ্টিয়া মেডিকেলের দূর্নীতি তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন

ভয়েস অফ কুষ্টিয়া ।। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতাসহ নানা বিষয় খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এ কমিটি গঠন করা হয়।

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন (আইএমইডি) বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সম্প্রতি এ কমিটি গঠন করা হয়।

অন্য সদস্যরা হলেন : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের একজন এবং আইএমইডির সংশ্লিষ্ট ডেস্কের একজন কর্মকর্তা। মঙ্গলবার কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, একনেক বৈঠকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনেই আমি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। আইএমইডির সচিবের দক্ষতা রয়েছে। তাই আশা করছি তদন্ত কাজ ভালোই হবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও আইএমইডি সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন,মঙ্গলবার বৈঠকের মধ্যদিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। কেননা, কমিটি বসে আমরা আলোচনা করেছি কীভাবে তদন্ত করা হবে।

এতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া কোন কোন বিষয় তদন্তে আসবে, সেসব বিষয় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হচ্ছে, সেটি দেখা হবে, তা নয়। এ প্রকল্পের কেনাকাটা থেকে শুরু করে সর্বশেষ সংশোধিত প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে যেসব দাম ধরা হয়েছিল, সেসব বিষয়ও খুঁজে দেখা হবে।

সূত্র জানায়, মূল প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে মোট ২৭৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে হাতে নেয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১২ সালের ৬ মার্চ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় একনেক।

এরপর প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়া প্রথম দফায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে ব্যয় বাড়িয়ে মোট ৬১১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত (তিন বছর বৃদ্ধি) বৃদ্ধি করে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন করা হয়।

এর মধ্যে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এখন দ্বিতীয় সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় বাড়িয়ে ৭৪২ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করে প্রস্তাব পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে।

গত বছরের ১২ মার্চ প্রথম পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুনর্গঠিত ডিপিপিতে প্রথম পিইসি সভার সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে পালন না করায় গত বছরের ২৬ আগস্ট প্রকল্পটির ওপর দ্বিতীয় পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অবশেষে ৬৮২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুনে বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছিল। এদিকে প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৫৫ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি ৩৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য গত ৫ জানুয়ারি উপস্থাপন করা হয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে। বাস্তবায়নের ধীরগতি দেখে ক্ষুব্ধ হন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

অনুমোদন না দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই নির্দেশ মেনেই তদন্তকাজ শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির ‘গোড়ায় গলদ’ ছিল। কোনো ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই এটি গ্রহণ করা হয়। ফলে তিন বছরের প্রকল্পে যাচ্ছে ১১ বছর।

এ ছাড়া সংশোধনী প্রস্তাবের প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেশি ধরা হয়। যা পরে পিইসি সভায় প্রশ্ন তোলে পরিকল্পনা কমিশন। পরবর্তী সময়ে সেসব দাম কমিয়ে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংশোধন করে পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে।

আলোচিত খবর

error: কপি করা যাবে না -ধন্যবাদ