কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় বাড়িতে পৌঁছে গেলো পুলিশ সুপারের উপহার

এম.এ.আর.নয়ন-চুয়াডাঙ্গা ।।  কন্যা সন্তান সৃৃৃৃৃৃষ্টিকর্তার অশেষ নিয়ামত। কিন্তু কন্যা সন্তান জন্মানোয় অনেক পরিবারেই সৃষ্টি হয় মনোমালিন্য। কন্যা জন্মানোর খবর শুনে অনেক পিতা আবার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়ে সংসারে তৈরি করেন নানা রকম অশান্তি। এই ঘটনা কিন্তু নতুন নই। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে মানুষের এই ধরনের আচরণ। এখনকার ডিজিটাল যুগে এসেও এই রীতি থেকে বের হওয়া সম্ভব হয়নি। বেশীরভাগই এমনটা করে থাকেন পুরুষ সম্প্রদায়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে কন্যা সন্তান জন্মানোর পিছনে নারীদের কোন হাত নেই। এটা সম্পূর্ণ পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম এর কারণে হয়। কারণ পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম হলো XY এবং নারীদের XX। ছেলে সন্তান জন্মানোর জন্য XY জাইগোটের প্রয়োজন হয় আর কন্যা সন্তানের জন্য প্রয়োজন XX জাইগোট। XY জাইগোট তৈরির জন্য নারীদের কোনপ্রকার হাত নেই। এটা সম্পূর্ণ পুরুষের উপর নির্ভরশীল। অথচ আমাদের সমাজে কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ায় সম্পূর্ণ দোষ দেওয়া হয় নারীদের৷ কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ায় সংসার ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ও আমাদের সমাজে অলৌকিক কিছু নয়। চিরাচরিত এসব ধ্যান-ধারণা থেকে বের হয়ে সকল সন্তানকে সমান চোখে দেখার জন্য যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার মানবিক পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। সম্প্রতি তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন “কন্যা সন্তান বোঝা নয়, আশীর্বাদ” চুয়াডাঙ্গা জেলার যেকোন প্রান্তে কন্যা সন্তান জন্ম নিলে পুলিশকে ফোন করুন। পৌঁছে যাবে পুলিশের উপহার। পুলিশ সুপারের এই ধরনের পোস্টকে খুবই ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন জেলাবাসী।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (১০ই জানুয়ারি) সকাল ১০টার সময় পুলিশ সুপারকে ফোন করে জানানো হয় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার কেদারগঞ্জ মালোপাড়ার মফিজুল হকের স্ত্রী সুলতানা পারভিন গত ১লা জানুয়ারি দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পৌরশহরের এ.আর ক্লিনিকে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন। ওই দম্পতির পরিবারের সদস্যরা ফোনের মাধ্যমে পুলিশ সুপারকে এই তথ্য জানান। ফোন পাওয়ার পরেই পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের নির্দেশে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ভূমিষ্ট হওয়া কন্যা সন্তানের জন্য নিউবর্ণ বেবী প্যাকেজ, পোশাক, মিষ্টি, ফল ও ফুলের তোড়া নিয়ে তাদের বাসায় উপস্থিত হয়ে শুভেচ্ছা জানান। পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রমে ওই কন্যা শিশুর পরিবার হতবাক হয়ে যান৷ এছাড়া একইদিন সকাল সাড়ে ১১টার সময় আলমডাঙ্গা থানাধীন নতিডাঙ্গা গ্রামের আমিনুর রহমানের স্ত্রী শামীমা খাতুন গত ১লা জানুয়ারি দুপুর ১২টার সময় উপশম নার্সিং হোমে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন এমন খবর পুলিশ সুপারকে ফোন করে জানান তার পরিবারের সদস্যরা। ফোন পেয়ে পুলিশের সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশের ওসি’র নেতৃত্বে পুলিশের কয়েকজন সদস্য একই ধরনের উপহার সামগ্রী নিয়ে তাদের বাড়িতে উপস্থিত হন। এ সময় তাদের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি দেখে খুশিতে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি এমন একজন পুলিশ সুপারকে নিজেদের জেলায় পেয়ে তারা নিজেদের গর্বিত মনে করছেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠির অর্ধেকই নারী। এই বিপুল সংখ্যাক নারী পিছিয়ে থাকলে দেশের সামগ্রীক উন্নয়ন অসম্ভব। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে সহযোগিতা কামনা করেন।

আলোচিত খবর

error: কপি করা যাবে না -ধন্যবাদ