ফেন্সিডিলের বোতল সহ বিতর্কিত সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা সাদ

ভয়েস অফ কুষ্টিয়া ।। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গড়ে ওঠা দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ । বর্তমান দেশনেত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পিত পদক্ষেপে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে যখন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলছে, ঠিক তখনই দলীয় কিছু নেতাকর্মীর দ্বারা বারবার বিতর্ক হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা এই দলটি ।

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে । এইবার সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে দেখা গেল ফেনসিডিলের বোতল সহ তিনি বসে আছেন । তার মাদক সেবনের বিষয়টি নিয়ে গোপনে অনেক গুঞ্জন চললেও তা এবার সত্যি হয়ে ধরা দিলো জনসাধারণের সম্মুখে ।

কুষ্টিয়া ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সে বিভিন্ন মাদক স্পটে গিয়ে মাদক সেবন করতো । তাকে প্রায়ই দেখা যায় পোড়াদহ ও আইলচারা বাজারের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকসেবীদের সাথে ।

গোপন খবরের ভিত্তিতে জানা যায়, পাটিকাবাড়ি থেকে কুষ্টিয়া শহরের অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল সাদ আহমেদের মাদক স্পট । কুষ্টিয়া শহরের পেয়ারাতলায় অবস্থিত সোনার বাংলা মসজিদের পাশেই সাদ আহমেদের আড্ডাখানা । সেখানে বসে তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন কুষ্টিয়ার মাদক সম্রাজ্য । সোনার বাংলা মসজিদের পাশের ঐ ম্যাচে সাদ আহমেদ এর বিশাল একটি গ্যাং অবস্থান করতো । সেখান থেকেই শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক সাপ্লাই করতো তার গ্রুপের ছেলেরা । এই গ্রুপের অধিকাংশ ছেলেরাই কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দা । তথ্য মোতাবেক ঐ ম্যাচে অধিকাংশ ছেলে ছিলো কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৮নং পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ।

সাদ বাহিনীর সকল গোপন অভিযান পরিচালিত হতো সাহাবুল হোসেন সাদ্দাম এর মাধ্যমে । মাদকের বিভিন্ন চালান শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বন্টন সাদের ও মাদক ব্যবসার সমস্ত টাকা-পয়সা লেনদেন হতো সাদ্দামের হাত ধরে । স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজের দরজায় পা না রাখতে পারলেও জেলা ছাত্রলীগের পদ অলংকৃত করতে কোন অসুবিধা হয়নি সাদ্দামের । দীর্ঘদিন অটোরিকশা না চালালেও সাদ্দাম এর আয়ের উৎস কেউ জানেন না । সাদ্দাম কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক  ছিলেন ।

সাদ আহমেদ নিজেও একজন মাদক সেবী ছিলেন বলে জানা যায় । তিনি ফেনসিডিল ইয়াবা সহ বিভিন্ন প্রকার মাদকের নেশায় আসক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে ।

সাদ আহমেদ নিজে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা বিএনপি এবং জামায়াতের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং পদ-পদবী ধারী ।

সাংবাদিক কে মারধরের অভিযোগে মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বহুল বিতর্কিত এই ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের একটি আভিযানিক দল । আটকের সময় বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা আলমডাঙ্গা কলেজপাড়া এলাকার জামায়াত নেতা আবু তালেব রওশন মাস্টারের বাড়িতে ছিলেন ।

বিতর্কিত এই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগসহ দলের ভিতর চলছে নানা প্রকার কানাঘুষা । তবে একটি ব্যাপারে স্পষ্ট যে সবাই এই বিতর্কিত নেতার বিচার চান । অনেকেই বলেন সে আসলে বিএনপি জামাত পরিবার থেকে উঠে ছাত্রলীগের রাজনীতি করা উদ্দেশ্য ছিল তার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা কর্মীরা বলেন, সাদের মত বিতর্ক আর কোন অনুপ্রবেশকারী যেন আওয়ামী লীগে প্রবেশ করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করতে পারে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে জেলা নেতাদের ।

এদিকে সাদ গ্রেফতার হওয়ার আগে দলের মধ্যে একটি গুঞ্জন চলছিল তিনি হয়তো কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগ অথবা কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের বড় কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন । সাদ গ্রেপ্তার হওয়ার পরে আওয়ামী লীগের ভিতরে নতুন করে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ করতে শুরু করেছেন জেলা পর্যায়ের নেতারা । অনেকেই মনে করেন সাদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে উত্তম সিদ্ধান্ত । অন্যথায় দলকে আরও বড় মূল্য দিতে হতে পারে ।

আলোচিত খবর

error: কপি করা যাবে না -ধন্যবাদ